ঢাকাMonday , 14 November 2022
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ ও দূর্নীতিঃ
  3. আইন – আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. কৃষি
  6. খেলাধুলা
  7. জাতীয়
  8. নির্বাচন
  9. বিনোদন
  10. মুক্ত কলাম
  11. রাজনীতি
  12. লালমনিরহাট
  13. লিড নিউজ
  14. শিক্ষা
  15. শিল্প ও সাহিত্য

কালীগঞ্জে দিনে দিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নেপিয়ার ঘাস চাষে 

TITUL ISLAM
November 14, 2022 2:48 pm
Link Copied!

রাহেবুল ইসলাম টিটুল লালমনিরহাট।

লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা -বুড়িমারী মহাসড়কের দুপাশের ঢালুতে সবুজ ঘাস চাষ করে জীবিকা আহরণ করছেন এক দম্পতি।

মহাসড়কের দুপাশেই লম্বা ঘাস। ওই দম্পতি ঘাস কাটছেন। ঘাস আঁটি করছেন। ভ্যানে তুলছেন। বাজারে নিয়ে যাবেন বিক্রির জন্য। এ যেন স্বাবলম্বী হওয়ার অভিনব এক সরল যুদ্ধ, জীবন যেখানে থেমে গিয়েও উঠে দাঁড়িয়েছে। যদিও সরকারি-বেসরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা তারা পাননি, পাননি পরামর্শ।

মহাসড়কের পাশেই দম্পতির সঙ্গে কাজের ফাঁকে কথা হয়। তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সহজ স্বীকারোক্তি এবং জীবনের সুখ-দুঃখের কথা। ঘাস চাষের আগের ও পরের জীবনের গল্প। তারা জানান, সংসারে দুরবস্থা ছিল। দুই সন্তান নিয়ে অর্ধাহারে কাটছিল তাদের সংসার।

ঘাস বিক্রি করে এখন বেশ চলছে। বড় সন্তান স্কুলে যাচ্ছে। এখন আগের মতো অভাব নেই। প্রতিদিনই ঘাস বেচা হয় স্থানীয় তুষভান্ডার বাজারে। ঘাসের একেকটি আঁটি ২০ টাকা। প্রতিদিন শ’খানেক আঁটি বিক্রি হয়। ১৫ থেকে ২০ দিন পরেই ফের কাটা যায়।

মোর্শেদ আলী বলেন, আমি অল্প কয়েকটি কাটিং লাগাই। দেখলাম ঘাসগুলো ভালো হলো। সড়কে ঘাস লাগাতে কেউ বাধা দেয়নি। দুবার কাটার পর দেখলাম প্রচুর পয়সা। এ অল্প কাটিং দেখে আরও লাগালাম। এখন আমার দেখে অনেকেই ঘাস লাগিয়েছে। আমিও আরও ঘাস লাগাচ্ছি। কেউ পরামর্শ দেয়নি। নিজের বুদ্ধিতেই করেছি। প্রাণিসম্পদ অফিস থেকেও কেউ সহোযোগিতা করেনি।

মোর্শেদ আলীর স্ত্রী বলেন, আমার বাবার বাড়ি রংপুরে। রংপুরে ঘাস কেনা-বেচা হয়। আমার ভাইয়ের কাছে কয়েকটি ঘাসের কাটিং চেয়ে আনি। ভাইকে বলি, কয়েকটি কাটিং দাও, আমি সড়কে লাগাব। এই ঘাস বেচে এখন আমার ছেলেটা লেখাপড়া করছে। মেয়েটাও স্কুলে যাবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এমন ঘাস চাষ জেলার বিভিন্ন স্থানে রেললাইন, স্থানীয় সড়ক, মহাসড়কসহ বিভিন্ন পতিত জমিতেই হচ্ছে।

পশুখাদ্যের চাহিদার হিসাব বলছে, শুধু লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলায় ১০ কোটি টাকার পশুখাদ্য লাগে। এসব খাদ্যের মধ্যে রয়েছে গমের ভুসি, রাইসপলিশ ও রেডি ফিড। এসব দুর্লভ ও দাম বেশি। দাম ওঠানামা করায় খামারিরা প্রায় নিঃস্ব।

উপজেলার বেশ কিছু খামারি জানান, পশুখাদ্যের দাম কমলেও ঘাসের বিকল্প নেই। আগের মতো দেশি ঘাস নেই। এখন উন্নত জাতের ঘাস চাষ করতে হচ্ছে। ঘাসের বাজার সৃষ্টি হলে, যে খামারিদের ঘাসের পর্যাপ্ত ঘাসের জমি নেই, তারা ঘাস কিনে খামার করতে পারবেন। রেডি ফিড, কেনা দানাদার দিয়ে পোষানো যাচ্ছে না।

এ অবস্থায় সড়ক, পতিত জমি, এমনকি সরকারের থেকে লিজ দেয়া সরকারি খাসজমিতে ঘাসচাষ হবে যুগান্তকারী উদ্যোগ। এতে বাঁচবে অর্থ, লাভের মুখ দেখবে খামারি। পশু পাবে প্রাকৃতিক খাদ্য এবং বছরে বাঁচবে কোটি কোটি টাকা, এ কথা মনে করছেন খামারসংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় মৃত্তিকা গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মশিউর রহমানের মতে, সড়ক ও রেললাইনের ধারে ঘাস চাষে সড়কের লাভ। এই প্রজাতির ঘাস মাটির উর্বরতায় ভূমিকা রাখে। মাটির ক্ষয় রোধ করে। ঘাস চাষ করা খুব ভালো উদ্যোগ। তবে সড়কের যান চলাচলের বিঘœ ঘটবে না, এমনভাবেই চাষ করা উচিত। ঘনঘন ঘাস কাটতে হবে। তাহলে সড়কের সিকিউরিটি, ফলন, মাটির উপকার হবে।

লালমনিরহাটের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তাদের পক্ষ থেকে কোনো সুযোগ-সুবিধা দেয়ার উপায় নেই। তিনি নিজে এমন সড়ক ও রেললাইনের ধারে ঘাস চাষ করতে দেখেছেন।

শেয়ার করুন:

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।