মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২০, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন কালীগঞ্জ উপজেলা বাসীকে ইউএনও রবিউল হাসান কালীগঞ্জবাসীকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চেয়ারম্যান মিজু  কালীগঞ্জে ফেনসিডিলসহ মাদক বিক্রেতা আটক হাতীবান্ধায় নদীতে গোসল করতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু মেধাবী শিক্ষার্থী সাম্মীর চিকিৎসায় এগিয়ে এলো সমাজকল্যাণ মন্ত্রী লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ছাহেরা মোটরসের নতুন শো-রুম চালু কালীগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম স্বরনে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত কালীগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের উদ্যোগে বাঁধ নির্মাণ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক ২৪ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে তিস্তা ৯৬’র বন্যার মতো ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে তিস্তা তিস্তায় সব  কয়টি গেট খুলে দিলেও পানির গতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না  তীরবর্তী মানুষদের সরে যেতে মাইকিং রেড অ্যালার্ট,জারি
বাঙালির মুক্তির দাবি উদ্ভাসিত হয়েছিল ৬ দফা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাঙালির মুক্তির দাবি উদ্ভাসিত হয়েছিল ৬ দফা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফোকাস বাংলা
ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফোকাস বাংলা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘোষিত ৬ দফা বাঙালির কাছে সে সময় তাদের মুক্তি ও বাঁচার দাবি হিসেবে উদ্ভাসিত হয়েছিল।

ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস উপলক্ষে রোববার (৭ জুন) গণভবনে ধারণকৃত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন তিনি। ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভায় সভাপত্বি করেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচনা সভাটি প্রচারিত হয়। খবর বাসসের।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘৬ দফাকে জনগণ এমনভাবে লুফে নিয়েছিল, আমি জানি না, পৃথিবীর কোনো দেশে এত দ্রুত কোনো দাবি এত বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছিল কি-না। বাংলার মানুষ এটাকে নিয়েছিল তাদের বাঁচার অধিকার হিসেবে এবং এটা প্রকৃতও তাই ছিল। এটাই ছিল সব থেকে বড় বিষয় যে, এত দ্রুত এই দেশের মানুষ ৬ দফাকে শুধু সমর্থনই করেনি তারা স্বায়ত্তশাসনের এই দাবিকে নিজেদের দাবি হিসেবে গ্রহণ করলো।’

১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘সে সময় দেখা গেল আমরা খুবই অরক্ষিত। ভারত-পাকিস্তান যখন তাসখন্দ চুক্তি করলো তখনও পূর্ববঙ্গ ছিল অরক্ষিত। তারপরে যখন ৬ দফা দেওয়া হলো তখনই এদেশের গণমানুষ জেগে উঠলো।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘৬ দফার ভিত্তিতেই ১৯৭০ সালের নির্বচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সমগ্র পাকিস্তানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংখ্যা গরিষ্ঠ আসন পায়। কাজেই ৬ দফা এবং ৭ জুনের কারণে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। সেজন্য দিবসটি আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘১৯৫২ সালে বুকের রক্ত দিয়ে আমাদের মাতৃভাষার মর্যাদাকে রক্ষা করতে হয়েছে। আবার ৭ জুন আমাদের স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন, সেখানেও রক্ত দিয়ে আমাদের লিখে যেতে হয়েছে যে, আমরা আমাদের স্বাধিকার চাই।’

বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি এবং কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক আলোচনায় অংশ নেন। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ডিজিটাল মাধ্যমে এ অনুষ্ঠান করা হয়। এতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবর্ষ উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরীও অংশ নেন।

১৯৬৬ সালের ৭ জুন ৬ দফা আন্দোলনকে সফল করার জন্য আওয়ামী লীগের ডাকা হরতালে অংশ নিয়ে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকযন্ত্রের পুলিশ ও ইপিআর’র গুলিতে আত্মাহুতি দানকারী শ্রমিক নেতা মনু মিয়া, আবুল হোসেন, শফিক, শামসুরসহ সকল শহীদকে প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঞ্চনার বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আজীবন সংগ্রাম করেছেন। আর তারই পথ বেয়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। কাজেই আজ এই ৭ জুন যারা জীবন দিয়ে সেদিন বাঙালির অধিকারের কথা বলে গেছেন- আমি তাদের স্মরণ করছি। স্মরণ করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যিনি সময়োচিত পদক্ষেপ নিয়ে ধাপে ধাপে এই বাঙালিকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছিলেন এবং আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়ে গেছেন। ৭ জুনের হরতাল থেকে শুরু করে আন্দোলনে আমার মায়ের বিরাট ভূমিকা ছিল। আামি আজকের দিনে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকেও স্মরণ করছি। স্মরণ করছি জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ এবং সম্ভ্রমহারা দুই লাখ মা-বোনকে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করে আমাদের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করা হয়েছিল। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর যে উদ্যোগ গ্রহণ করে তার ফলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছিল। কিন্তু করোনাভাইরাস এসে সবার জীবনকে স্থবির করে দিয়েছে। এটা শুধু বাংলাদেশ নয় সমগ্র বিশ্বব্যাপীই এখন সমস্যা।’

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি আমাদের দেশের প্রত্যেকটি মানুষ স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিয়ম মেনে চলবেন। ইনশাআল্লাহ আমরা মুক্তি পাব। বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে এবং জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলবো।’

এ সময় সভার আলোচক এবং প্রবন্ধ রচয়িতাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেয়ার করুন:

সংবাদ টি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভাষা পরিবর্তন করুন




© All rights reserved © 2018 লালমনিরহাট অনলাইন নিউজ
Design BY PopularHostBD