লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে পরিবেশবিধি উপেক্ষা করে পরিচালিত অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান চালিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। অভিযানে দুটি ইটভাটাকে মোট ৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং কিলন ভেঙে তাৎক্ষণিকভাবে ভাটাগুলো বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) দুপুরে পরিবেশ অধিদপ্তর, লালমনিরহাট জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এই মোবাইল কোর্টে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ায় গোড়ল ইউনিয়নের মেসার্স জিএ ব্রিকসকে ৫ লাখ টাকা এবং মেসার্স এস এ ব্রিকসকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। আদেশ অনুযায়ী জরিমানার পুরো অর্থ ঘটনাস্থলেই আদায় করা হয়
অভিযান সূত্রে জানা গেছে, ভাটাগুলোতে অনুমোদনহীনভাবে ইট প্রস্তুত, কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং পরিবেশ দূষণের মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া যায়| এসব অনিয়মের কারণে স্থানীয় পরিবেশ ও জনসাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইংয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কিশোর কুমার দাস। প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন লালমনিরহাট জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. গোলাম আসিফ রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী পরিচালক বিজন কুমার রায়সহ পরিবেশ অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা দেয় জেলা পুলিশ, র্যাব-১৩ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা। অভিযানের সময় ভাটাগুলোর কিলন আংশিক ভেঙে ফেলা হয় এবং ভবিষ্যতে পুনরায় কার্যক্রম চালু না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ ইটভাটা শুধু বায়ুদূষণই বাড়ায় না, বরং কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট করে এবং আশপাশের জীববৈচিত্র্যরে ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সরকার পরিবেশ রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।


