রাহেবুল ইসলাম টিটুল লালমনিরহাট।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, অন্যান্য পেশার মতো খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকেও সম্মানজনক ও সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার কাজ করছে। তরুণ প্রজন্ম যাতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে ভবিষ্যৎ জীবিকার ক্ষেত্র হিসেবে নিতে পারে, সে লক্ষ্যে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী বৈশাখী আনন্দ উৎসব ও মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড় গড়ে তুলতে সরকার সারাদেশে “নতুন কুঁড়ি” নামে একটি কর্মসূচি চালু করেছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিভাবান শিশু-কিশোর ও তরুণদের খুঁজে বের করে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জাতীয় পর্যায়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে।
তিনি আরও বলেন, “খেলাধুলাকে শুধুমাত্র বিনোদন হিসেবে দেখার সময় শেষ হয়েছে। এটি এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা বাড়ানোর অন্যতম ক্ষেত্র। তাই খেলোয়াড়দের জন্য পেশাগত নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
সংস্কৃতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিদেশি আগ্রাসন ও আধুনিকতার চাপে গ্রামবাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি ও লোকজ খেলাধুলা হারিয়ে যেতে বসেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলাকে মাঠে ফিরিয়ে আনা এবং গ্রামীণ সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “শুধু খেলাধুলা নয়, প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। তরুণ সমাজকে সুস্থ বিনোদন, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধে গড়ে তুলতে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ত্রাণমন্ত্রী আরও বলেন, হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য, লোকসংস্কৃতি ও গ্রামীণ খেলাধুলা টিকিয়ে রাখতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গ্রাম পর্যায়ে এমন উৎসব আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
দুই দিনব্যাপী বৈশাখী উৎসবের প্রথম দিনে বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন গ্রামীণ খেলাধুলার প্রতিযোগিতা, ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড়, লোকজ প্রদর্শনী এবং সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম মমিনুল হকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।


