সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২১, ১২:৩৩ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
তিস্তায় এখন পানিও নেই মাছও নেই কষ্টে দিন কাটাচ্ছি তিস্তা পাড়ের জেলেরা  পাটগ্রামের ‘ইউএনও কে দ্রুত অপসারণ করা না হলে রাস্তাঘাট অচলের হুঁশিয়ারী ইউএনওর আশ্বাসে ঘুরেও জুটলোনা কিছুই লালমনিরহাট অনলাইন নিউজে সংবাদ প্রকাশের পর ফাতেমার ভাঙ্গা বাড়ীতে ডিসি,ঘর দেয়ার আশ্বাস ভাঙ্গা ঘরে রাত কাটে ফাতেমার,স্বামী হারানোর দেড় বছরেও হয়নি বিধবা ভাতার কার্ড রাতে ঘুরে ঘুরে শীতার্তদের মাঝে ডিসির কম্বল বিতরণ ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটিতে ওয়েভার ও উপহারসহ ভর্তি লালমনিরহাট অনলাইন নিউজে সংবাদ প্রকাশের পর কদবানুকে ঘর দেয়ার আশ্বাস ইউএনও’র লালমনিরহাটে কৃষি দপ্তরের গোডাউনে আগুন নিয়নত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট বাবা তুমি নেই তাতে কি হয়েছে ? তোমার রোপন করা গাছের ফল খেয়ে অনেকেই তৃপ্তি মেঠাচ্ছে
‘কেউ কি আরেকটি সোনালি কাবিন লিখতে পেরেছে?’

‘কেউ কি আরেকটি সোনালি কাবিন লিখতে পেরেছে?’

বাংলাদেশের কবি আল মাহমুদ শুক্রবার রাত ১১টার দিকে না ফেরার জগতে চলে গেছেন। বেসরকারি হাসপাতাল ইবনে সিনা কর্তৃপক্ষ কবির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তিনি বেশ কিছু দিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

১৯৩৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে আল মাহমুদের জন্ম। লেখালেখি শুরু করেন ৫০ এর দশকে। কবি হিসেবে জনপ্রিয়তা পেতে তার খুব একটা সময় লাগেনি। ‘সোনালি কাবিন’ শব্দ দুটো উচ্চারণ করলেই যার নাম সামনে আসে, তিনি হচ্ছেন কবি আল মাহমুদ। গত ৫০ বছর ধরে বাংলা কবিতার জগতে আলোড়ন তুলেছেন তিনি।

‘সোনালি কাবিন’ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে সাহিত্যানুরাগীদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান এই কবি। কবিতা, গল্প এবং উপন্যাস- সব শাখাতেই তার বিচরণ থাকলেও কবি হিসেবেই তিনি ব্যাপক পরিচিত।

প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘লোক লোকান্তর’ প্রকাশিত হয় ১৯৬৩ সালে। কিন্তু কাব্যগ্রন্থ ‘সোনালি কাবিন’ আল মাহমুদকে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে নিয়ে যায়। আল মাহমুদের কবিতা বাংলাদেশের অনেক কবিকে প্রভাবিত করেছিল। এদের মধ্যে কবি আসাদ চৌধুরী অন্যতম।

আসাদ চৌধুরী বলেন, ‘আমি অজস্র মুক্তিযোদ্ধাকে দেখেছি সোনালি কাবিন তাদের মুখস্থ।’

আল মাহমুদের কবিতার বিষয়বস্তুতে প্রথম দিকে গ্রামের জীবন, বামপন্থী চিন্তা-ধারা এবং নারী মুখ্য হয়ে উঠলেও পরবর্তীতে ইসলামী ভাবধারা প্রবল হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আগে এবং পরে- এ সময়ের মাঝে তার মতাদর্শে ব্যাপক পরিবর্তন হয়। আল মাহমুদের কবিতায় মুক্তিযুদ্ধের আগে বাম ধারা দেখা গেলেও ১৯৭৪ সালের পর থেকে তার কবিতায় ইসলামী ভাবধারা লক্ষ্য করা যায়।

১৯৭২ সালে আল মাহমুদ তৎকালীন গণকন্ঠ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। আল মাহমুদের সম্পাদনায় তখন গণকন্ঠ পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেছেন গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ।

তিনি মনে করেন, আল মাহমুদ গণকন্ঠের সম্পাদক থাকলেও তার দলীয় কোন পরিচয় ছিলনা। রাজনৈতিক দল জাসদের প্রতি সহানুভূতি থাকলেও আল মাহমুদ কখনো সরাসরি রাজনীতিতে জড়াননি।

১৯৭৪ সালের ১৭ই মার্চ তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ির সামনে জাসদের উদ্যোগে ঘেরাও কর্মসূচীর ডাক দেয়া হয়। সেদিন রাতেই তৎকালীন গণকন্ঠের সম্পাদক আল মাহমুদকে গ্রেফতার করা হয়। মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জাসদ গণকন্ঠের মালিক ছিল বলে আল মাহমুদ ভিকটিম হলেন এবং তিনি অনেকদিন বিনা বিচারে কারাগারে ছিলেন।’

মহিউদ্দিন আহমেদের বর্ণনায় জেল থেকে মুক্তি পাবার পর ‘অন্যরকম এক আল মাহমুদের’ দেখা মিলল। তখন আল মাহমুদের মধ্যে ইসলামী ধ্যান-ধারণা প্রবল হয়ে ওঠে বলে উল্লেখ করেন মহিউদ্দিন আহমেদ।

আল মাহমুদ কবি হলেও তিনি নিজেকে রাজনৈতিক দর্শন থেকে দূরে রাখেননি। এনিয়ে তর্ক-বিতর্ক যাই থাকুক না কেন, কবি আসাদ চৌধুরী আল মাহমুদকে বিচার করেন তার লেখা এবং শিল্পের বিচারে।

শুরুর দিকে বামপন্থী চিন্তাধারার হলেও, সেখান থেকে সরে এসে আল মাহমুদ কেন ইসলামী ভাবধারার দিকে ঝুঁকলেন? ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিবিসি বাংলার সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি সে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন।

আল মাহমুদ বলেছিলেন তিনি কখনো মার্কসবাদী ছিলেন না বরং তার চরিত্রে এক ধরনের দোদুল্যমানতা ছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি যে পরিবারে জন্মেছি তারা সবাই ছিল খুবই ধর্মপ্রবণ লোক। কিভাবে যেন তাদের মধ্যেই যে রয়েছে সত্যিকারের পথের ঠিকানা এটা আমাকে দূর থেকে ইশারায় ডাকত।’

আসাদ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর অনেক মুক্তিযোদ্ধার মতো তারও ক্ষোভ বেশি ছিল এবং ক্ষোভের প্রকাশটা রাজনৈতিক আচরণের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। যেটা অনেকে পছন্দ করেননি। কিন্তু শিল্পীকে বিচার করতে হয় শিল্পের মাপকাঠিতে। আল মাহমুদকে বিচার করতে হবে তার কবিতা দিয়ে।’

কবি হলেও আল মাহমুদ বিভিন্ন সময় সংবাদপত্রে কাজ করেছেন। কিন্তু বরাবরই তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন তার কবিতাকে। লোক-লোকান্তর, কালের কলস, সোনালী কাবিন- একের পর এক কাব্যগ্রন্থ লিখেছেন তিনি। মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আল মাহমুদ সবসময় দাবী করতেন তিনি একজন কবি। তিনি কখনোই বলেননি যে তিনি একজন সম্পাদক।’

আহমেদ বলেন, ‘আল মাহমুদ সব সময় চাইতেন তাকে তার কবিতা দিয়েই মূল্যায়ন করা হোক। একবার মাহমুদ ভাই একটা কথা বলেছিলেন, যেটা এখনো আমার কানে ভাসে। সেটা হলো- আর কেউ কি আরেকটি সোনালি কাবিন লিখতে পেরেছে?’

১৯৫০ সালের পর বাংলা সাহিত্যে যত কবির আবির্ভাব হয়েছে, শিল্পমান এবং লেখার বিচারে বিশ্লেষকরা আল মাহমুদ সন্দেহাতীতভাবে প্রথম সারিতেই রয়েছেন। সূত্র: বিবিসি

শেয়ার করুন:

সংবাদ টি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভাষা পরিবর্তন করুন




© All rights reserved © 2018 লালমনিরহাট অনলাইন নিউজ
Design BY PopularHostBD