বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:৩৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
”মুলার মণ ১০ টাকা ”১০ মণ মুলায় ১কেজি চাল! হাতীবান্ধায় ডাকালীবান্ধা বাজার জামে মসজিদ এর উদ্বোধন করলেন মোতাহার হোসেন এমপি মুজিববষে কালীগঞ্জের দুর্গম চরের ১৬৯১ পরিবারে বিদ্যুতের আলো কালীগঞ্জে ঔষধ প্রশাসন ও কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত কালীগঞ্জে বাস চাপায় মা-ছেলে নিহত, আহত ৫ মেধা তোমার মূল হাতিয়ার, অদম্য ইচ্ছা, কঠোর অধ্যবসায় রাকিবুজ্জামান আহমেদ উত্তর অঞ্চলের মানুষকে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বদ্ধপরিকর জনপ্রিয় “হামার লালমনি গ্রুপ” ডিজেবল সেই দুলালের স্বপ্নের দোকান তৈরি করে দিলেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মামাজ কালীগঞ্জে ছাগল বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু
চিকিৎসকের অভাবে লালমনিরহাট রেলওয়ে হাসপাতাল এখন নিজেই রোগী

চিকিৎসকের অভাবে লালমনিরহাট রেলওয়ে হাসপাতাল এখন নিজেই রোগী

অনলাইন ডেস্ক :: প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসকের অভাবে রোগী শূন্য হয়ে পড়েছে লালমনিরহাট রেলওয়ে হাসপাতাল। একসময় রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও বাইরে থেকে সাধারণ মানুষও চিকিৎসা নিতে আসত। আর এখন হাসপাতাল জুড়ে সুনসান নীরবতা- যেন সে নিজেই রোগী।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সপ্তাহে মাত্র ৪দিন আউটডোর খোলা থাকে। এ কয়েক দিনে ২০-২৫ জন চিকিৎসা নেয়। তবে ইনডোরের অবস্থা আরো শোচনীয়। ৩২ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি থাকে দুয়েকজন। তাও একেবারে দরিদ্র ও নিরুপায় হওয়া কোনো রোগী।

এ দুরাবস্থার কারণ মেডিকেল অফিসার, সহকারী মেডিকেল অফিসার ও পাঁচজন সহকারী সার্জনের পদ বহুদিন ধরে শূন্য। যিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন, তাকেই রোগী দেখতে হয়। আবার সপ্তাহে একদিন পাবর্তীপুরেও বসতে হয়। ইনডোর সেবার কাজে নিয়োজিত সিস্টার ইনচার্জ মহসিনা বেগম বলেন, একসময় প্রচুর রোগী আসত। এখন চিকিৎসক নেই। তাই রোগীও আসে না।

জানা যায়, হাসপাতালটি ১৯৩৯ সালে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার অধীনে ছিল। ১৯৭৯ সালের ১৫ জানুয়ারি লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ের অধীনে দেয়া হয়। ৩২ শয্যার হাসপাতালটিতে ৯টি নারী ও ১৮টি পুরুষ শয্যার পাশাপাশি ৫টি কেবিন রয়েছে। হাসপাতালের মঞ্জুরীকৃত ২৪৭টি জনবলের বিপরীতে বর্তমানে ১৩২টি পদ শূণ্য যার অধিকাংশই গুরুত্বপূর্ণ।

লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে হাসপাতালের প্রধান সহকারী সারাফত হোসেন জানান, চিকিৎসকের ৭টি পদের মধ্যে ডিএমও ছাড়া সবক’টি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। গুরুত্বপূর্ণ পদের মধ্যে সিস্টার ইনচার্জ, স্টোর কিপার, প্রধান সহকারী, স্টেনোগ্রাফার, টাইপিস্ট, ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট, উচ্চমান সহকারী, অফিস সহকারী, এক্স-রে অ্যাটেনডেন্ট, ওটি অ্যাসিস্ট্যান্ট, স্যানেটারি পরিদর্শক পদগুলো শূন্য। হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ও চালক থাকলেও কোনো কাজে আসছে না।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, রেলের কয়েকজন কর্মচারী চিকিৎসা নিতে এসেছেন। এর মধ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুস সোবহান (৮০)। কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, খামাখা জনগণের টাকা অপচয় না করে এ হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়া উচিত। এসময় চিকিৎসা নিতে এসে হতাশার কথা জানান আরো কয়েক জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণে হাসপাতালটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় নেয়া উচিত বলে মনে করেন লালমনিরহাট রেলওয়ে হাসপাতালের ডিএমও ডা. মো. আনিছুল ইসলাম। তিনি বলেন, রেলওয়ে পুলিশ যেমন পুলিশ বিভাগের অধীনে থেকে সেবা দিচ্ছে। তেমনি হাসপাতালটি রেলওয়ের অধীনে রেখে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় নিলে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা যেতে পারে।

লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মিজানুর রহমান বলেন, প্রতি মাসেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জনবল চেয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। সম্ভবত দুই-তিনজন চিকিৎসক আমরা শিগগিরই পাব। তারা যোগ দিলে দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হবে।

শেয়ার করুন:

সংবাদ টি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভাষা পরিবর্তন করুন




© All rights reserved © 2018 লালমনিরহাট অনলাইন নিউজ
Design BY PopularHostBD