সোমবার, ১৭ মে ২০২১, ০১:০৬ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
কালীগঞ্জে বিধিনিষেধের মধ্যেও মহিপুর তিস্তা সড়ক সেতুতে মানুষের ঢল কালীগঞ্জে অটো চোর চক্রের ২ সদস্য আটক ও অটোরিক্সা উদ্ধারে পুলিশের প্রেস ব্রিফিং কালীগঞ্জে উপজেলা বাসীকে ঈদের অগ্রীম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন লোকমান গণি ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন গাইবান্ধার এডিসি রবিউল হাসান ঈদ-উল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন সাংবাদিক তিতাস আলম হাতীবান্ধা উপজেলা বাসীকে ঈদের অগ্রীম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মোনাব্বেরুল হক মোনা হাতীবান্ধা বাসীকে ঈদের অগ্রীম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী জাহিদুল ইসলাম জাহিদ ঈদের অগ্রীম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ লিফ ঐক্য কল্যান পরিষদের সভাপতি ফরিদুল ইসলাম কালীগঞ্জ উপজেলা বাসীকে ঈদের অগ্রীম শুভেচ্ছা জানালেন শাহিনুর আলম খোকন কালীগঞ্জ উপজেলা বাসীকে অগ্রীম ঈদ শুভেচ্ছা জানালেন মনির হোসেন তালুকদার
করোনায় সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে পুরুষের পাশাপাশি ক্ষেত খামারে শ্রম বিক্রি করছেন নারীরা! 

করোনায় সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে পুরুষের পাশাপাশি ক্ষেত খামারে শ্রম বিক্রি করছেন নারীরা! 

রাহেবুল ইসলাম টিটুল লালমনিরহাট।

উপার্জন বাড়িয়ে সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে পুরুষের পাশাপাশি ক্ষেত খামারে শ্রম বিক্রি করেন নারীরা

“বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।”

করোনায় এখন গ্রামীণ জনপদে নারীরা ঘরে বসে নেই। উপার্জন বাড়িয়ে সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে পুরুষের পাশাপাশি ক্ষেত খামারে শ্রম বিক্রি করছেন তারা। লালমনিরহাটে পুরুষদের মতো নারীদের ক্ষেত-খামারে কাজ করার তেমন একটা রেওয়াজ ছিল না।

কিন্তু বর্তমানে দুর্মূল্যের বাজারে শুধু পুরুষদের পরিশ্রমে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে, তার উপর আরার করোনায় ভাইরাসে সারা পৃথিবীকে পাল্টিয়ে দিয়েছে তাই সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে পুরুষদের পাশাপশি নারীরাও ক্ষেত-খামার ও চাতালে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। তবে নারীরা সমপরিমাণ পরিশ্রম করলেও পুরুষের তুলনায় মজুরি পাচ্ছেন কম।

কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ধান ক্ষেত নিড়ানি কাজের পাশা পাশি তামাকের কাজ করছেন জহিরন বেগম ও শান্তি বালা। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাহে দলবেঁধে গ্রামের ক্ষেত-খামারে কাজ করি। এ অঞ্চলের নিয়ম অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত গৃহস্থের (জমি মালিক) জমিতে নানা ধরনের কৃষি কাজ করতে হয়। গৃহস্থরা আমাদের মজুরি দেয় মাত্র ২০০ টাকা। অথচ একই কাজে পুরুষ শ্রমিকদের দেয়া হয় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।’

পাটগ্রাম উপজেলায়ও সহস্রাধিক নারী শ্রমিক রয়েছেন। তারা পাথর ভাঙার মতো কঠিন কাজে নিয়োজিত। কিন্তু পুরুষের তুলনায় প্রতিনিয়ত মজুরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন তারা। কথা হয় পাথর শ্রমিক মফিজন বেওয়া ও মরিয়ম বেওয়ার সঙ্গে। তারা বলেন, পুরুষের পাশে বসে সমান কাজ করি। কিন্তু সমপরিমাণ কাজ করেও পুরুষের সমান মজুরি পাই না। নারীরা প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

নারী-পুরুষের মধ্যে মজুরি বৈষম্যের কথা স্বীকার করে কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের কৃষক মনছুর মিয়া বলেন, ‘নারীরা পুরুষের সমান কাজ করে সেটি সঠিক। কিন্তু পূর্ব থেকে বাজার যেভাবে চলে আসছে ঠিক সেভাবে দেওয়া হচ্ছে মজুরি। হঠাৎ করে তো বাড়ানো যাবে না।’

কালীগঞ্জ উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজনীন রহমান জানান, নারীরা প্রতিটি ক্ষেত্রে মজুরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। বন্ধ হোক নারীর প্রতি অবিচার এবং সমাজের প্রত্যেকটি নারী পাক তার যথার্থ সম্মান, অর্জিত হোক নারী অধিকার। কর্মক্ষেত্রে কিংবা নিজ ঘরে রয়েছে তাদের অবদান। নারীরা পুরুষের সমান কাজ করেও ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও কাজের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে পারলে পুরুষের মতো তারাও কৃষিক্ষেত্রসহ সমাজের নানা কাজে ব্যাপক ভূমিকা রাখেতে পারবে। তাতে একদিকে বেকার সমস্যার সমাধান হবে অপরদিকে নারী পুরুষ মিলে দেশকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নেয়া সহজ হবে।

শেয়ার করুন:

সংবাদ টি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভাষা পরিবর্তন করুন




© All rights reserved © 2018 লালমনিরহাট অনলাইন নিউজ
Design BY PopularHostBD