সোমবার, ১৭ মে ২০২১, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
কালীগঞ্জে বিধিনিষেধের মধ্যেও মহিপুর তিস্তা সড়ক সেতুতে মানুষের ঢল কালীগঞ্জে অটো চোর চক্রের ২ সদস্য আটক ও অটোরিক্সা উদ্ধারে পুলিশের প্রেস ব্রিফিং কালীগঞ্জে উপজেলা বাসীকে ঈদের অগ্রীম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন লোকমান গণি ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন গাইবান্ধার এডিসি রবিউল হাসান ঈদ-উল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন সাংবাদিক তিতাস আলম হাতীবান্ধা উপজেলা বাসীকে ঈদের অগ্রীম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মোনাব্বেরুল হক মোনা হাতীবান্ধা বাসীকে ঈদের অগ্রীম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী জাহিদুল ইসলাম জাহিদ ঈদের অগ্রীম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ লিফ ঐক্য কল্যান পরিষদের সভাপতি ফরিদুল ইসলাম কালীগঞ্জ উপজেলা বাসীকে ঈদের অগ্রীম শুভেচ্ছা জানালেন শাহিনুর আলম খোকন কালীগঞ্জ উপজেলা বাসীকে অগ্রীম ঈদ শুভেচ্ছা জানালেন মনির হোসেন তালুকদার
আইতে ঘুমির পাং না, ঘরোত বৃষ্টির পানি দিয়ে গাও বিছনা ভিজি যায় তবু কাউ একনা মোক ঘর দেয় না

আইতে ঘুমির পাং না, ঘরোত বৃষ্টির পানি দিয়ে গাও বিছনা ভিজি যায় তবু কাউ একনা মোক ঘর দেয় না

রাহেবুল ইসলাম টিটুল লালমনিরহাট প্রতিনিধি।।

আইতে (রাতে) ঘুমির পাং না, ঘরোত বৃষ্টির পানি দিয়ে গাও বিছনা ভিজি যায় তবু কাউ একনা মোক ঘর দেয় না

অনাহারে অধারে দিন কাটে হামার ‘মোর তিন শতক ভুই (জমি) আছে তা খাস। ভালো একনা ঘর নাই। একনা ভাঙা ঘর। কোন রকম পলি দিয়ে তো ও গাত(গায়ে পানি পড়ে) ও কনা ঘরতে চার কোনা ছেলে (মেয়ে) নিয়া থাকোং (থাকি)’ কত মানুষ ঘর পায় মুই না পাং এভাবেই কথা গুলো বলেন সোনাবি বেগম।

‘আইতে (রাতে) ঘুমির পাং না, ঝড়িতে (বৃষ্টিতে) দিনোত (দিনে) তো ভাল থাকোং(থাকি) আর আইতে(রাতে) ঘর দিয়ে পানি পড়ে। ফাকা জাগা (ফাঁকা-জায়গা) বাতাস ঢোকে ঘরের ভেতরোত।

বেটা কোনা ১২ বছর হয় প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডও পাং নাই কাও করি ও দেয় না। মুই তো মোর কষ্টের কতা (কথা) চেয়ারম্যান-মেম্বারের কতবার কছুং ৷ কাও মোর বেটা টার (ছেলেটার)ভাতা করে দেয় নাই৷ সরকার থেকে যদি একনা ঘর পানুং হয় তাইলে বাকি জীবনটা ভালো করে কাটনুং (কাটিল) হয়’।

এভাবেই নিজের কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ৩নং তুষভান্ডার ইউনিয়নের ১নং কাশীরাম মুন্সীর বাজার এলাকার আব্দুল জলিলের স্ত্রী সোনাবি বেগম (৫০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দশ বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। তিন বছর ধরে স্বামী অচল এখন পর্যন্ত ভাগ্যে জোটেনি তার ছেলের প্রতিবন্ধী ভাতা, ভিজিডি কার্ড কিংবা মাথা গোঁজার মতো একটা সরকারি ঘর। এমন কি সরকারি কাজের বিনিময় খাদ্য কর্মসূচিতে নাই তার নাম।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি টিন দিয়ে তৈরি একটি টিনের ঘরে বৃষ্টিতে তিন ছেলে মেয়ে কে নিয়ে কোনোমতে কষ্টে বসবাস করছেন সোনাবি বেগম।

অভাবের তাড়নায় দুই মেয়েকে অন্য বাড়িতে রেখে ঝিয়ের কাজ করতে হচ্ছে। আর এক ছেলে চায়ের দোকানে কাজ করে বউ নিয়ে চলছে তার সংসার আর এক ছেলে প্রতিবন্ধী। আর তার স্বামী একজন চানাচুর বিক্রিতা কিন্তু আজ একবছর ধরে করনার কারনে তার ও ব্যবসা চলে না আর।।

সারাদিন পরিশ্রম করে রাতে একটু ভালোভাবে ঘুমাতেও পারেন না তারা। আর কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ভিজে যায় বিছানাপত্র। তবুও বেঁচে থাকার তাগিদে জরাজীর্ণ ভাঙা টিনের চালায় রাতভর ছটফট করে অচল স্বামী সন্তানকে নিয়ে থাকতে হয় হচ্ছে সোনাবি বেগমকে। মুজিববর্ষে সরকারি একটি ঘর পাওয়ার আকুতি জানান সোনাবি বেগম।

এ বিষয়ে তুষভান্ডার ইউপি চেয়ারম্যান নুর ইসলাম জানান, এ অসহায় মহিলা সরকারি ঘর পাওয়ার যোগ্য বলেই মনে করি।

শেয়ার করুন:

সংবাদ টি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভাষা পরিবর্তন করুন




© All rights reserved © 2018 লালমনিরহাট অনলাইন নিউজ
Design BY PopularHostBD