সোমবার, ২১ Jun ২০২১, ০৮:২৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি পরিচালনায় ডিজিটাল প্রযুক্তি পাটগ্রামে ভূমি ও গৃহহীন পরিবার পেল মুজিববর্ষের ঘর কালীগঞ্জে ৯৯৯-এ ফোন করে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেলেন মা মেয়ে’ আটক ১ ভূমিহীন-গৃহহীনদের আবাসস্থল প্রদানে শেখ হাসিনা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন- সমাজকল্যাণ মন্ত্রী কালীগঞ্জে জমি নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১,আহত ৬ গ্রেপ্তার ৮ আযান শুনলেই কোলে নিয়ে মসজিদে যাও লাগতো সে এখন ৪ লক্ষ টাকার জন্য মৃত্যুর কোলে কালীগঞ্জে পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে গৃহবধূকে নির্যাতন লালমনিরহাটে ভাতিজার হাতে চাচি খুন মানবিক ও মানবাধিকার বান্ধব পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা, মানবাধিকার করোনা মহামারীরর কারনে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবেনা- সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিল্পী শ্যামলীর,সব প্রতিভা নিঃশেষ হচ্ছে দারিদ্র্যতায়

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিল্পী শ্যামলীর,সব প্রতিভা নিঃশেষ হচ্ছে দারিদ্র্যতায়

লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ-

দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে বহু প্রতিভাবান শিল্পী, সুরকার ও সাহিত্যিক। কিন্তু সুযোগের অভাবে সম্ভাবনাময় অনেক প্রতিভার অপমৃত্যু ঘটছে হর হামেশা। প্রতিভার যথাযথ মূল্যায়ন বর্তমানে অনুপস্থিত। এমনই এক প্রতিভা সম্পন্ন কন্ঠশিল্পী মোছাঃজবা আক্তার(শ্যামলী)। তার সুরের মাধুরীতে সাংস্কৃতিক অঙ্গন মুখরিত। তার গানের কন্ঠ হৃদয়স্পর্শী, সঙ্গীতের প্রায় অনেক শাখায় তার বিচরণ। আধুনিক, পল্লীগীতি,ও আন্চলিক ভাওয়াইয়া গানই হলো তার প্রান।

লালমনিরহাট জেলার কালিগন্জ উপজেলার,চন্দ্রপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড লতাবর নামক গ্রামে,দিনমজুর মোঃজালাল উদ্দিনের ঘরে, ১৯৯৯ ইং সালের সেপ্টেম্বর মাসের ৬ তারিখে শ্যামলির জন্ম হয়। ৩ বোন ও ১ ভাইয়ের মধ্যে শ্যামলী হলো তার বাবা মায়ের তৃতীয় সন্তান।

শ্যামলী,তার মায়ের গর্ভে থাকাকালীন সময়ে,তার মা প্যারালাইসিস এ আক্রান্ত হওয়ার দরুন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম হয় তার,তৎকালীন সময়ে দিনমজুর জালাল উদ্দিন অন্যের কাছে ধার দেনা করে চিকিৎসার জন্য জেলার হাড়িভাংগা চক্ষুক্লিনিকে ভর্তি করলেও তার একটি চোখ স্হায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও অন্যটি দিয়ে সামান্যই দেখতে পায়।টাকা পয়শার অভাবে উন্নত চিকিৎসার চিন্তাও করতে পারেনি তার বাবা মা।

এমতাবস্থায়,জবা আক্তার, লালমনিরহাটের হাড়িভাংগায় আর,ডি,আর,এস,কর্তৃক পরিচালিত প্রতিবন্ধী স্কুলে ভর্তি হয়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি নৃত্য ও সঙ্গীত চর্চা শুরু করে ষষ্ঠশ্রেনীতে উত্তীর্ণ হয়ে,লালমনিরহাট শিল্পকলা একাডেমিতে ভর্তি হয়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি ৩ বৎসর নৃত্য ও সঙ্গীত চর্চা করেন।

লালমনিরহাট শিল্পকলা একাডেমির সৌজন্যে, দলগতভাবে সে তিনবার বি,টি,ভির “তারানা” নৃত্য অনুষ্টানে অংশগ্রহন করে ব্যপক সাফল্য লাভ করে।
কোন প্রতিবন্ধকতাই যেন হার মানাতে পারেনি তাকে।

চমৎকার কন্ঠের জন্য শ্যামলী, এ পর্যন্ত বহু সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অনেক পুরষ্কার সামগ্রী ও প্রশংসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
বাংলাদেশ বেতার রংপুরে, ভাওয়াইয়া ও পালাগান গেয়ে অসংখ্য শ্রোতার হৃদয়ে স্হান করে নিয়েছে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এই শিল্পী।

২০১৬ইং সালে,ব্রাক কর্তৃক আয়োজিত,”চ্যানেল আই”এ “তারায় তারায় দ্বীপশিখা” অনুষ্ঠানে ঙ গ্রুপে ৩য় স্হান দখল করে স্হানীয় ভাবে নতুন করে আবারো আলোচিত হন এই শিল্পী।

২০১৭ ইং সালে শ্যামলীর এস,এস,সি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে আকস্মিক তার বাবার মৃত্য হওয়ায় সে ইংরেজি বিষয়ে ফেল করায়,টাকা পয়শার অভাবে পরবর্তীতে আর পরীক্ষা দেয়া হয়নি এবং সংগীত চর্চা বন্ধ হয়ে যায়।

একান্ত আলাপচারিতায়, শ্যামলী,ও তার মা হাজেরা বেগম এবং তার ভাই জাহাঙ্গীর আলম এ প্রতিবেদককে জানান যে,শ্যামলীর অনেক বড় আশা স্বপ্ন ছিল দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী হওয়ার,ভালো কোন সংগীত সংগঠনে ভর্তি হয়ে,অনুশীলন করে সংগীতকে বুকে লালন করে শিল্পী মর্যাদা লাভ করার। এজন্য অদম্য ইচ্ছা ও সৎসাহস থাকলেউ,দারিদ্র্যতার চরম কষাঘাতে সেই স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই রয়ে গেল।কুড়িঁ হতেই ঝড়ে যাচ্ছে শ্যামলীর প্রতিভা।

শ্যামলীর মা বলেন যে, গান গেয়ে গানের মাধ্যমে মানুষের মনে আনন্দ বিনোদন প্রদান ও একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী হওয়াই তার স্বপ্ন। সে একজন বড় শিল্পী হতে চায়। কিন্তু সুযোগ হবে কি কখনো?
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ায়,কেউ আমাদের খোঁজ খবর কেউ রাখেনা।

শ্যামলীর ভাই জাহাঙ্গীর আলম,বলেন যে,
গানের মাধ্যমে মানুষকে আনন্দ দান করা এবং একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করাই ছিলো বোনটির জীবনের একমাত্র আশা স্বপ্ন, কিন্তু, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর কাছে নয়,একমাত্র দারিদ্র্যতার কাছেই সব স্বপ্ন,শুধু স্বপ্নই রয়ে গেলো।

স্হানীয়,”কমলা বাড়ী টিভি”নামক একটি ইউটিউব চ্যানেলে শ্যামলীর ৪০/৫০গান প্রকাশিত হয়েছে,যেগুলোর গীতিকার, সুরকার ও গায়িকা সে নিজেই।

শ্যামলী, কাতরতার সহিত বলেন যে,শহর অঞ্চলের শিল্পীরাই বিভিন্নভাবে সরকারের দৃষ্টিতে পরে নানা সাহায্য সহযোগিতার মধ্য দিয়ে নিজেকে বিকাশ করতে পারে। এবং সহজেই প্রতিষ্ঠিত শিল্পী বলে পরিচিত হতে পারে,কিন্তু মফস্বলের খবর কেও রাখেনা।

যেমনি,পরিচর্চা গুনে যেমন একটি বাগান ফুলে-ফলে সৌন্দর্য মন্ডিত হয়ে ফুটে উঠে, শিল্পীর তুলির আছড়ে জীবন্ত হয়ে ফুটে উঠে এক একটি চিত্র। ঠিক তেমনি পূর্ণ মন্ত্র ও অফুরন্ত অনুপ্রেরণা সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে সাহায্য করে। কারন উচ্চ শিক্ষিত কিংবা গুণীজন হয়ে কেউ জন্মে না। অনুকুল পরিবেশে সুশিক্ষা গ্রহনের ফলশ্রুতিতেই সমাজে গুণীজনের আত্মপ্রকাশ ঘটে।তেমনি,হয়তো বা কাহারো সহযোগীতায়,দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এ মেয়টির মেধা,প্রতিভা বিকশিত হতে পারে,বাস্তবে রুপ নিতে পারে তার কাঙ্ক্ষিত আশা স্বপ্ন।

প্রতিবন্ধকতা কে হার মানিয়ে জয় হতে পারে তার মেধা ও প্রতিভার।

পরিশেষে তিনি তার এ প্রতিভাকে মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিতে,এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা যেন কাওকে দমিয়ে রাখতে,এবং হার মানাতে না পারে,সেটা প্রমান করার জন্য, তিনি সমাজের বিত্তশালী,সংগীতপ্রিয় ব্যাক্তিত্ব,সংগঠন ও সরকারের সাহায্যের কামনা করেছেন।

শেয়ার করুন:

সংবাদ টি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভাষা পরিবর্তন করুন




© All rights reserved © 2018 লালমনিরহাট অনলাইন নিউজ
Design BY PopularHostBD