সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১০:২৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
হাতিবান্ধায় যৌতুকের কারণে স্ত্রীকে নির্যাতন, মামলা আমলে নিচ্ছে না পুলিশ ৩০০ মোটরসাইকেল নিয়ে আ.লীগ প্রার্থী নুর ইসলাম আহমেদের শোডাউন কালীগঞ্জে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত জনপ্রিয়তার শীর্ষে তুষভান্ডার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুর ইসলাম আহমেদ কালীগঞ্জে ট্রাক্টারের ধাক্কায় আবু বক্কর সিদ্দিক নামে কলেজ শিক্ষক নিহত ‘‘আমি জনগনের সেবক হতে চাই’’ আমার লক্ষ্য উদ্দেশ্য চেয়ারম্যান হওয়া নয়-শাহ আযম নয়ন বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে আজকের এই বাংলাদেশ পেতাম না- সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহম্মেদ দলগ্রাম ইউনিয়নবাসীর সেবা করতে নির্বাচনে অংশ নিতে মাঠে নেমেছেন আতাউর রহমান ছোটন কাকিনা ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল হক শহিদ জনপ্রিয়তার শীর্ষে কালীগঞ্জে নবাগত সাব–রেজিস্ট্রারের যোগদান
প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে খুশি হাতীবান্ধার ৯৭৬ পরিবার

প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে খুশি হাতীবান্ধার ৯৭৬ পরিবার

ফেলানী বেগম। ভিক্ষা করেই চলে তার জীবন-জীবিকা। ৩ শতক জমি থাকলেও থাকার বসত ঘর ছিলো না তার। তাই সারা দিন ভিক্ষা করে রাতে অন্যের বাড়িতে ঝুপড়ি ঘরে ঘুমাতে হতো তাকে। সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্পের ঘর পেয়ে খুশি ফেলানী বেগম। তার বাড়ি লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী গ্রামের ৯ নং ওয়ার্ডে। 

ভিক্ষুক ফেলানী বেগম বলেন, ‘আজ শান্তিতে ঘুম যাবার পাচ্ছি। শেখের বেটিক ধন্যবাদ। হামার মতন নিঃস্ব লোকের পাশত দাঁড়াবার জন্যে। ঘর পাইতে কাকো কোনো টাকা পয়সা দেওয়া নাগেনি। হঠাৎ একদিন অফিসার আসি কয়, আমার নামে নাকি শেখের ব্যাটি ঘর বরাদ্দ দিছে।’

হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ কর্মসূচির আওতায়  ‘জমি আছে, ঘর নাই’ প্রকল্পের অধিনে উপজেলার নদী ভাঙনের শিকার, দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধা, ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, বিধবা, স্বামী পরিত্যাক্ত, বয়োবৃদ্ধ কর্মহীন পরিবার ও অসহায় পরিবার গুলোকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। এতে প্রথম পর্যায়ে উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নে ৯ শত ৭৬ টি পরিবারের মাঝে একটি করে আধা পাঁকা ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। ৯ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পে প্রতিটি ঘর নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছে ১ লক্ষ টাকা। ঘর পেয়ে খুশি ওই সব গৃহহীন পরিবার গুলো।  

হাতীবান্ধা উপজেলার দ. গড্ডিমারী গ্রামের আব্দুস ছামাদ জানান, ‘নদী হামার সব ভাঙ্গি নিয়ে গেইছে। ১৫ বছর থাকি পোয়ালের (খড়) চালাত আছিনো, এ্যালা ঘর পায়া হামার ভাল হইছে। আইতত শান্তিতে নিন্দ (ঘুম) পারবের পাইছে।’

কথা হয় ওই এলাকার ছকিনা বেগম, পার্শ্ববতী গ্রামের আজিয়া বেগমসহ অনেকের সাথে। তারাও ঘর পেয়ে অনেক খুশি। তারা বলেন, অনেক কিছু সাহায্য পাইছি, কিন্তু টাকা পয়সা ছাড়া ঘর পাব এমন আশা কখনও করিনি। আল্লাহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দীর্ঘজীবি করুন।

হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফেরদৌস আহম্মেদ বলেন, তিস্তা নদীর ভাঙনের কারণে এ উপজেলায় হাজার হাজার পরিবার মানবেতর জীবন-যাপন করছে। ওই সব দুঃস্থ, নদী ভাঙা ও অসহায় পরিবারগুলোর মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ প্রকল্পের মাধ্যমে ঘরের ব্যবস্থা করেন। বাস্তবায়িত ঘরগুলোর নিয়ম মোতাবেক শত ভাগ গুনগত মান রক্ষা করে ডিজাইন অনুযায়ী নির্মাণ করা হয়েছে। 

হাতীবান্ধা উপজেলা চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন বাচ্চু বলেন, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় সব মানুষকে ঘর দেয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেনের মাধ্যমে আরো চাহিদা অনুযায়ী তালিকা প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। বরাদ্দ সাপেক্ষে বাকীদের পর্যায়ক্রমে এ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রায়ন-২ কর্মসূচির আওতায় ‘জমি আছে, ঘর নাই’ প্রকল্পের মাধ্যমে জেলায় ৩ হাজার ৯ শত ৮১ টি পরিবারকে বসত বাড়ি নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। এ কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে চলবে। শেখ হাসিনার বাংলাদেশে কেউ গৃহহীন থাকবে না।

শেয়ার করুন:

সংবাদ টি শেয়ার করুন

ভাষা পরিবর্তন করুন




© All rights reserved © 2018 লালমনিরহাট অনলাইন নিউজ
Design BY PopularHostBD